وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، (وَاللَّفْظُ لِعَلِيٍّ وَزُهَيْرٍ)
قَالَ عَلِيٌّ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعَ عَمْرٌو، جَابِرًا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَرْبُ خَدْعَةٌ»
The Messenger of Allah (sallallahu alayhi wa sallam) said: War is a stratagem.
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী (রহঃ) ..... যুরারাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির (রহঃ) আল্লাহর পথে (আজীবন) লড়াই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। তাই তিনি মাদীনায় আগমন করলেন। তিনি চাচ্ছিলেন এ উদ্দেশে তিনি তার জমি-জমা বিক্রি করে তা দ্বারা অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের ঘোড়া কিনবেন এবং রোমান অর্থাৎ খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু জিহাদ করবেন।
তাই মদীনায় এসে তিনি মাদীনাহবাসী কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ করলে তারা তাকে ঐরুপ করতে নিষেধ করলেন। তারা তাকে এ কথাও জানালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় ছয়জন লোকের একটি দল এ একই কাজ করতে চাইলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে নিষেধ করেছিলেন; আমার জীবন ও কর্মে কি তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নেই?
তারা (মাদীনাহবাসী) যখন তাকে এ কথাটি শুনালেন তখন তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলেন (রুজ’আত করলেন) এবং কিছু লোককে এ ব্যাপারে সাক্ষী রাখলেন। কেননা এ কাজের (জিহাদের) জন্য তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস এর কাছে এসে তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন।
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস তাকে বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী জানে আমি এমন একজন লোকের সন্ধান কি তোমাকে দিব না?
তিনি (সাদ ইবনু হিশাম ইবনু আমির) বললেনঃ তিনি কে? আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বললেনঃ তিনি হলেন আয়িশাহ (রাযিঃ)। তার কাছে গিয়ে তুমি জিজ্ঞেস করবে, তারপর তোমাকে দেয়া তার জবাব আমাকে এসে জানাবে। আমি তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। প্রথমে আমি হাকীম ইবনু আফলাহ-র কাছে গেলাম। আমি তাকে আমার সাথে তার (আয়িশাহ) এ দু' দলের ব্যাপারে কোন কিছু বলতে নিষেধ করেছিলাম।
কিন্তু তিনি তা না শুনে বরং একটি পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির বলেনঃ তখন আমি তাকে কসম দিয়ে যেতে বললাম। তাই তিনি যেতে রাজি হলেন। আমরা আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে অবহিত করলে তিনি আমাদেরকে অনুমতি দান করলেন। আমরা তার কাছে গেলে তিনি হাকীম আফলাহকে চিনতে পারলেন।
তাই বললেনঃ আরে, এ যে হাকীম? তিনি (হাকীম ইবনু আফলাহ) বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাথে কে আছে? তিনি বললেনঃ সা'দ ইবনু হিশাম (ইবনু আমির)। তিনি প্রশ্ন করলেন। কোন হিশাম?
হাকীম ইবনু আফলাহ বললেনঃ ‘আমিরের পুত্র হিশাম। এ কথা শুনে তিনি তার প্রতি খুব স্নেহপ্রবণ হলেন এবং তার ব্যাপারে ভাল মন্তব্য করলেন। কাতাদাহ্ বর্ণনা করলেনঃ আফলাহ উহুদের যুদ্ধে শাহীদ হয়েছিলেন।
এরপর আমি বললামঃ হে উন্মুল মুমিনীন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আখলাক সম্পর্কে আমাকে কিছু অবহিত করুন। এ কথা শুনে তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি কি কুরআন পড় না?
আমি বললাম- হ্যাঁ, পড়ি। তিনি বললেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আখলাক তো ছিল কুরআন। সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির বলেছেন : আমি তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম উঠে চলে আসি এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যাপারে আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না করি। কিন্তু আমার মনে আবার একটি নতুন ধারণা জাগল।
তাই আমি বললামঃ আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের ইবাদাত (কিয়ামুল লায়ল) সম্পর্কে কিছু অবহিত করুন। তিনি এবার আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সূরাহ "ইয়া আইইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল" পড় না?
আমি বললাম- হ্যাঁ পড়ি। তিনি বললেনঃ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এ সূরার প্রথমভাগে “কিয়ামুল লাইল" বা রাতের ইবাদাত বন্দেগী ফারয (ফরয) করে দিয়েছেন। তাই এক বছর পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ রাতের বেলা ইবাদাত করেছেন। মহান আল্লাহ বারো মাস পর্যন্ত এ সূরার শেষাংশ আসমানে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন (অর্থাৎ বারো মাস পর্যন্ত এ সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ করেননি)।
অবশেষে (বারো মাস পরে) এ সূরার শেষে আল্লাহ তা'আলা রাতের ইবাদাতের হুকুম লঘু করে আয়াত অবতীর্ণ করলেন। আর এ কারণে রাত জেগে ইবাদাত যেখানে ফারয (ফরয) ছিল সেখানে তা নাফল বা ঐচ্ছিক হয়ে গেল।
সা'দ ইবনু হিশাম বলেনঃ আমি বললাম, হে উন্মুল মু'মিনীন! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে আমাকে কিছু অবহিত করুন। তিনি বললেনঃ আমরা তার জন্য মিসওয়াক এবং ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর রাতের বেলা মহান আল্লাহ যখন চাইতেন তখন তাকে জাগিয়ে দিতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক করতেন। ওযু করতেন এবং নয় রাকাআত (বিতর) সালাত আদায় করতেন।
এতে অষ্টম রাকাআত ছাড়া বসতেন না। এ বৈঠকে তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতেন, তার প্রশংসা করতেন এবং তার কাছে প্রার্থনা করতেন। অতঃপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে আমরা তা শুনতে পেতাম। এবার সালাম ফিরানোর পর ঘরে বসেই তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
তারপর বললেনঃ হে বৎস! এ এগার রাকাআত সালাত তিনি রাতে আদায় করতেন। পরবর্তী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেড়ে গিয়েছিল এবং শরীরও কিছুটা ভারী হয়ে গিয়েছিল তখন তিনি সাত রাকাআত বিতর আদায় করতেন। এক্ষেত্রেও তিনি শেষের দু রাকাআত সালাত পূর্বের মতো করেই আদায় করতেন। হে বৎস! এভাবে তিনি নয় রাকাআত সালাত আদায় করতেন।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সালাত আদায় করলে তা সর্বদা নিয়মিত আদায় করা পছন্দ করতেন। যখন ঘুমের প্রাবল্য বা ব্যথা-বেদনার কারণে তিনি রাতে ইবাদাত (সালাত আদায়) করতে পারতেন না, তখন দিনের বেলা বারো রাকাআত সালাত আদায় করতেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে পুরো কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করেছেন বা সকাল পর্যন্ত সারা রাত আদায় করেছেন কিংবা রমযান মাস ছাড়া সারা মাস সিয়াম (রোযা) পালন করেছেন এমনটি আমি কখনো দেখিনি।
সা'দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির বর্ণনা করেছেন পরে আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে এসে আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তিনি সঠিক বলেছেন। আমি যদি তার কাছে থাকতাম বা তার কাছে যেতাম তাহলে নিজে তার মুখ থেকে হাদীসটি শুনতে পেতাম।
সা'দ ইবনু হিশাম বললেনঃ আমার যদি জানা থাকত যে, আপনি তার কাছে যান না, তাহলে আপনাকে আমি তার কথা বলতাম না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬০৯, ইসলামীক সেন্টার)
ابن ابی عدی نے سعید ( ابن ابی عروبہ ) سے ، انھوں نے قتادہ سے اور انھوں نے زرارہ سے روایت کی کہ ( حضرت انس رضی اللہ تعالیٰ عنہ کے قریبی عزیز ) سعد بن ہشام بن عامر نے ارادہ کیا کہ اللہ تعالیٰ کی راہ میں جنگ ( جہاد ) کریں ، وہ مدینہ منورہ آگئے اور وہاں ا پنی ایک جائیداد فروخت کرنی چاہی تاکہ اس سے ہتھیار اور گھوڑے مہیا کریں اور موت آنے تک رومیوں کے خلاف جہاد کریں ،
چنانچہ جب مدینہ آئے تو اہل مدینہ میں سے کچھ لوگوں سے ملے ، انھوں نے اس کو اس ارادے سے روکا اور ان کو بتایا کہ چھ افراد کے ایک گروہ نے نبی اکرم صلی اللہ علیہ وسلم کی حیات مبارکہ میں ایسا کرنے کاارادہ کیاتھا تو نبی اکرم صلی اللہ علیہ وسلم نے انہیں روک دیا تھا ۔
آپ نے فرمایا تھا : "" کیا میرے طرز عمل میں تمھارے لئے نمونہ نہیں ہیں؟ "" چنانچہ جب ان لوگوں نے انھیں یہ بات بتائی تو انھوں نے اپنی بیوی سے رجوع کرلیا جبکہ وہ اسے طلاق دے چکے تھے ، اور اس سے رجو ع کے لئے گواہ بنائے ۔ پھر حضرت ابن عباس رضی اللہ تعالیٰ عنہ کی خدمت میں حاضر ہوکر ان سے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے وتر ( بشمول قیام اللیل ) کے بارے میں سوال کیا تو حضرت ابن عباس رضی اللہ تعالیٰ عنہ نے کہا : کیا میں تمھیں اس ہستی سے آگاہ نہ کروں ۔
جو روئے زمین کے تمام لوگوں کی نسبت ر سول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے وتر کو زیادہ جاننے والی ہے؟سعد نے کہا : وہ کون ہیں؟انھوں نےکہا : حضرت عائشہ رضی اللہ تعالیٰ عنہا ان کے پاس جاؤ اور پوچھو ، پھر ( دوبارہ ) میرے پاس آنا اور ان کا جواب مجھے بھی آکر بتانا ،
( سعدنے کہا : ) میں ان کی طرف چل پڑا اور ( پہلے ) حکیم بن افلح کے پاس آیا اور انھیں اپنے ساتھ حضرت عائشہ رضی اللہ تعالیٰ عنہا کے پاس چلنے کو کہا تو انھوں نے کہا : میں ان کے پاس نہیں جاؤں گا کیونکہ میں نے انھیں ( آپس میں لڑنے والی ) ان دو جماعتوں کے بارے میں کچھ بھی کہنے سے روکا تھا ۔
تو وہ ان دونوں کے بارے میں اسی طریقے پر چلتے رہنے کے سوا اور کچھ نہ مانیں ۔ ( سعد نے ) کہا : تو میں نے انھیں قسم دی تو وہ آگئے ، پس ہم حضرت عائشہ رضی اللہ تعالیٰ عنہا کی طرف چل پڑے ، اور ان سے حاضری کی اجازت طلب کی ، انھوں نے اجازت مرحمت فرمادی اور ہم ان کے گھر ( دروازے ) میں داخل ہوئے ، انھوں نے کہا : کیا حکیم ہو؟انہوں نے اسے پہچان لیا ، اس نے کہا : جی ہاں ۔
تو انھوں نے کہا : تمہارے ساتھ کون ہے؟اس نے کہا : سعد بن ہشام ۔ انھوں نے پوچھا : ہشام کون؟ اس نے کہا : عامر رضی اللہ تعالیٰ عنہ ( بن امیہ انصاری ) کے بیتے ۔ تو انہوں نے ان کے لئے رحمت کی دعا کی اور کلمات خیر کہے ۔
قتادہ نے کہا : وہ ( عامر رضی اللہ تعالیٰ عنہ ) غزوہ احد میں شہید ہوگئے تھے ۔ میں نے کہا : ام المومنین! مجھے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے خلق مبارک کے بارے میں بتایئے ۔
انھوں نے کہا : کیاتم قرآن نہیں پڑھتے؟میں نے عرض کی : کیوں نہیں !انھوں نے کہا : اللہ کے نبی صلی اللہ علیہ وسلم کا اخلاق قرآن ہی تھا ( آپ کی سیرت وکردار قرآن کا عملی نمونہ تھی ) کہا : اس پر میں نے یہ چاہا کہ اٹھ ( کر چلا ) جاؤں اور موت تک کسی سے کچھ نہ پوچھوں ، پھر اچانک زہن میں آیا تو میں نے کہامجھے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے ( رات کے ) قیام کے بارے میں بتائیں ، تو انھوں نے کہا : کیا تم ( يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ) نہیں پڑ ھتے؟
میں نے عرض کی کیوں نہیں!انھوں نے کہا : اللہ تعالیٰ نے اس سورت کے آغاز میں رات کا قیام فرض قرار دیا تو نبی کریم صلی اللہ علیہ وسلم اور آپ کے ساتھیوں نے سال بھر قیام کیا اور اللہ تعالیٰ نے اس سورت کی آخری آیات بارہ ماہ تک آسمان پر روکے رکھیں یہاں تک کہ اللہ تعالیٰ نے اس سورت کے آخر میں تخفیف کا حکم نازل فرمایاتو رات کا قیام فرض ہونے کے بعد نفل ( میں تبدیل ) ہوگیا ۔
سعد نے کہا : میں نے عرض کی : اے ام المومنین ! مجھے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کے وتر کے بارے میں بتایئے ۔ تو انھوں نے کہا : ہم آپ صلی اللہ علیہ وسلم کے لئے آپ کی مسواک اور آپ کے وضو کا پانی تیار کرکے رکھتے تھے اللہ تعالیٰ رات کو جب چاہتا ، آپ کو بیدار کردیتا تو آپ مسواک کرتے ، وضو کرتے اور پھر نو رکعتیں پڑھتے ، ان میں آپ آٹھویں کے علاوہ کسی رکعت میں نہ بیٹھتے ،
پھر اللہ کا ذکر کرتے ، اس کی حمد بیان کرتے اور دعا فرماتے ، پھر سلام پھیرے بغیر کھڑے ہوجاتے ، پھر کھڑے ہوکرنویں رکعت پڑھتے ، پھر بیٹھتے اللہ کا ذکر اور حمد کرتے اور اس سے دعا کرتے ، پھر سلام پھیرتے جو ہمیں سناتے جو ہمیں سناتے پھر سلام ے بعد بیٹھ کر دو رکعتیں پڑھتے ، تو میرے بیٹے!
یہ گیارہ رکعتیں ہوگئیں ۔ پھر جب رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کی عمر مبارک بڑھی اور ( جسم پر کسی حد تک ) گوشت چڑھ گیا ( جسم مبارک بھاری ہوگیا ) تو آپ سات وتر پڑھنے لگ گئے اور دو رکعتوں میں وہی کرتے جو پہلے کرتے تھے ( بیٹھ کر پڑھتے ) تو بیٹا!یہ نو رکعتیں ہوگئیں اور اللہ کے نبی صلی اللہ علیہ وسلم جب کوئی نماز پڑھتے تو آپ پسند کرتے کہ اس پرقائم رہیں اور جب نیند یا بیماری غالب آجاتی اور رات کا قیام نہ کرسکتے تو آپ دن کو بارہ رکعتیں پڑھ لیتے ۔
میں نہیں جانتی کہ اللہ کے نبی کریم صلی اللہ علیہ وسلم نے بھی پورا قرآن ایک رات میں پڑھا ہو اور نہ ہی آپ نے کسی رات صبح تک نماز پڑھی اور نہ رمضان کے سوا کبھی پورے مہینے کے روزے رکھے ۔
( سعد نے ) کہا : پھر میں ابن عباس رضی اللہ تعالیٰ عنہ کی طرف گیا اور انھیں ان ( حضرت عائشہ رضی اللہ تعالیٰ عنہا ) کی حدیث سنائی تو انھوں نے کہا : حضرت عائشہ رضی اللہ تعالیٰ عنہا نے سچ کہا ، اگر میں ان کے قریب ہوتا یا ان کے گھر جاتا ہوتا تو ان کے پاس جاتا تاکہ وہ مجھے یہ حدیث رو برو سناتیں ۔
( سعد نے ) کہا : میں نےکہا : اگر مجھے علم ہوتا ہے کہ آپ ان کے ہاں حاضر نہیں ہوتے تو میں آپ کو ان کی حدیث نہ سناتا ( یہ سعد بالآخر سرزمین ہند میں شہید ہوئے)
Telah menceritakan kepada kami [Muhammad bin Al Mutsanna Al 'Anzi] telah menceritakan kepada kami [Muhammad bin Abu 'Adi] dari [Said] dari [Qatadah] dari [Zurarah], bahwa [Sa'd bin Hisyam bin Amir] hendak berangkat berperang fi sabilillah. Ia lalu tiba di kota Madinah dan hendak menjual lahan pilihannya di Madinah untuk ia belikan senjata dan kuda perang, supaya dapat memerangi Romawi hingga mati.
Seketika ia tiba di Madinah, ia menemui beberapa orang Madinah. Rupanya mereka melarang menjual lahan miliknya, mereka lalu mengabarinya bahwa pada saat Nabiyullah masih hidup, enam orang berniat seperti itu, namun Nabiyullah shallallahu 'alaihi wasallam melarangnya, beliau bersabda: "Bukankah dalam diriku terdapat teladan yang baik untukmu?"
Setelah mereka menceritakan hal itu kepada Sa'd, lantas Sa'd kembali merujuk isterinya yang sebelumnya telah dicerai, setelah itu ia bertanya kepada Ibnu Abbas tentang witir Rasulullah shallallahu 'alaihi wasallam.
Ibnu Abbas menjawab; "Maukah kuberitahukan kepadamu kepada orang yang paling tahu tentang witir Rasulullah shallallahu 'alaihi wasallam? Sa'ad bertanya; "Siapa? Ibnu Abbas menjawab; " ['Aisyah], datanglah kepadanya, dan bertanyalah, setelah itu datanglah kekadaku, dan beritahukanlah jawabannya kepadaku." Maka aku berangkat menemuinya, dan kudatangi Hakim bin Aflah, dan kuminta dia untuk menemui 'Aisyah.
rupanya dia menjawab; "Saya bukan orang yang dekat dengan Aisyah, sebab aku pernah melarang beliau Aisyah untuk berkomentar terhadap sesuatu mengenai dua kubu kaum muslimin yang bertikai. Ternyata Aisyah enggan, dan terus berkomentar tentang dua kubu tersebut."
Sa'ad berkata; "Aku pun bersumpah atasnya, hingga Hakim bersedia untuk menemuinya. Kami terus berangkat menuju Aisyah, kami meminta ijin dan Aisyah memberi ijin kepada kami, akhirnya kami menemui beliau.
'Aisyah bertanya; "Apa benar ini Hakim?" Rupanya Aisyah mengenalnya. Hakim menjawab; "Benar." Aisytah bertanya; "Lalu siapa yang bersamamu?" Hakim menjawab; "Dia adalah Sa'd bin Hisyam."
Aisyah bertanya lagi; "Hisyam siapa?." Hakim menjawab; "Hisyam bin 'Amir." Akhirnya 'Aisyah tahu dan bersikap simpati terhadapnya sembari berujar; "Baiklah, kalau begitu."
-Qatadah berkata; Hisyam bin Amir gugur ketika perang Uhud- lantas aku (Saad) bertanya; "Wahai Ummul mukminin, beritahukanlah kepadaku tentang akhlak Rasulullah shallallahu 'alaihi wasallam!.'
'Aisyah menjawab; "Bukankah engkau telah membaca Alquran?" Aku menjawab; "Benar, " Aisyah berkata; "Akhlak Nabi shallallahu 'alaihi wasallam adalah Al Quran." Sa'd berkata; "Mendengar itu, aku hendak berdiri dan tidak akan bertanya lagi tentang sesuatu kepada seseorang hingga aku meninggal, kemudian muncul dibenakku, lalu aku bertanya; "Beritahukanlah kepadaku tentang shalat malamnya Rasulullah shallallahu 'alaihi wasallam?"
'Aisyah balik bertanya; "Bukankah engkau pernah membaca surat Al Muzammil? Aku menjawab; "Benar" Kata Aisyah; "Allah Azza wa Jalla pernah mewajibkan qiyamullail (shalat malam) di awal surat ini turun, sehingga Nabiyullah shallallahu 'alaihi wasallam dan para sahabatnya mendirikannya selama setahun, dan Allah menahan penutupnya di langit selama dua belas bulan hingga Allah turunkan akhir surat ini sebagai bentuk keringanan, sehingga shalat malam menjadi sunnah setelah diwajibkan.
Kata Sa'ad; "Wahai Ummul mukminin, beritahukanlah kepadaku tentang witir Rasulullah shallallahu 'alaihi wasallam! Jawabnya; "Kami dulu sering mempersiapkan siwaknya dan bersucinya, setelah itu Allah membangunkannya sekehendaknya untuk bangun malam. Beliau lalu bersiwak dan berwudhu` dan shalat sembilan rakaat. Beliau tidak duduk dalam kesembilan rakaat itu selain pada rakaat kedelapan, beliau menyebut nama Allah, memuji-Nya dan berdoa kepada-Nya, kemudian beliau bangkit dan tidak mengucapkan salam.
Setelah itu beliau berdiri dan shalat untuk rakaat ke sembilannya. Kemudian beliau berdzikir kepada Allah, memuji-Nya dan berdoa kepada-Nya, lalu beliau mengucapkan salam dengan nyaring agar kami mendengarnya. Setelah itu beliau shalat dua rakaat setelah salam sambil duduk, itulah sebelas rakaat wahai anakku. Ketika Nabiyullah berusia lanjut dan beliau telah merasa kegemukan, beliau berwitir dengan tujuh rakaat, dan beliau lakukan dalam dua rakaatnya sebagaimana yang beliau lakukan pada yang pertama, maka itu berarti sembilan wahai anakku.
Jika Rasulullah shallallahu 'alaihi wasallam mengerjakan shalat, maka beliau suka dikerjakan secara terus menerus (kontinyu). Jika beliau ketiduran atau sedang sakit sehingga tidak dapat melakukannya di malam hari, maka beliau shalat di waktu siangnya sebanyak dua belas rakaat, seingatku Nabiyullah shallallahu 'alaihi wasallam tidak pernah membaca satu mushaf (keseluruhan Alquran) dalam satu malam, tidak pula shalat malam hingga subuh, tidak pula pula puasa sebulan penuh selain bulan Ramadhan."
Kata Sa'ad; "Setelah itu aku berangkat menemui Ibnu Abbas, aku lalu menceritakan kepadanya tentang haditsnya tersebut, Ibnu Abbas lalu berkata; "Aisyah benar." Kalaulah aku mendekatinya atau menemuinya, tentu aku menemuinya hingga berhadapan satu sama lain untuk menyampaikan hadits tersebut.
Sa'ad melanjutkan; Aku berkata; "Sekiranya aku tahu bahwa engkau tidak menemuinya, tentu tidak aku ceritakan kepadamu hadits tersebut." Dan telah menceritakan kepada kami [Muhammad bin Al Mutsannana] telah menceritakan kepada kami [Mu'adz bin Hisyam] telah menceritakan kepadaku [Ayahku] dari [Qatadah] dari [Zurarah bin Abu Aufa] dari [Sa'id bin Hisyam], bahwa ia pernah mencerai isterinya, kemudian ia berangkat ke Madinah untuk menjual lahan pilihannya, lantas ia menyebutkan hadits yang serupa.
Dan telah menceritakan kepada kami [Abu Bakr bin Abu Syaibah] telah menceritakan kepada kami [Muhammad bin Bisyr] telah menceritakan kepada kami [Said bin Abu Arubah] telah menceritakan kepada kami [Qatadah] dari [Zurarah bin Aufa] dari [Sa'd bin Hisyam] bahwa ia mengatakan; aku pergi menemui Abdullah bin Abbas dan bertanya kepadanya tentang shalat witir, lalu ia menyebutkan hadis beserta kisahnya, dan dalam haditsnya, dia menyebutkan; Aisyah bertanya; 'Hisyam siapa?"
Aku menjawab; "Ibnu 'Amir." Kata 'Aisyah; "Dia adalah sebaik-baik orang." Amir gugur dalam perang Uhud. Dan telah menceritakan kepada kami [Ishaq bin Ibrahim] dan [Muhammad bin Rafi'] keduanya dari [Abdurrazaq] telah mengabarkan kepada kami [Ma'mar] dari [Qatadah] dari [Zurarah bin Aufa], bahwa [Sa'd bin Hisyam] adalah tetangganya, lantas Sa'd mengabarkan kepadanya bahwa ia telah mencerai isterinya dan ia kisahkan hadis semakna hadis Sa'id, dalam redaksinya disebutkan; Aisyah berkata; "Hisyam siapa?"
Sa'd menjawab; "Hisyam bin Amir. Aisyah menjawab; "Dia adalah sebaik-baik orang, ia gugur ketika berperang bersama Rasulullah shallallahu 'alaihi wasallam pada perang Uhud." Dan dalam hadits tersebut disebutkan; "Maka Hakim bin Aflah berujar; "Kalaulah aku tahu bahwa engkau tidak menemuinya, tentu aku tidak menceritakan hadits ini kepadamu
Bize, Muhammedi'bnü'l-Müsennâ El-Anezî rivayet etti. (Dediki): Bize, Muhammedü'bnü Ebi Adîyy, Saîd'den; o da Katâde'den, o da Zürâra'dan naklen rivayet ettiki, Sa'dü'bnü Hişâm b. Âmir, Allah yolunda gazaya niyet ederek Medine'ye gelmiş ve Medine'de kendine âid bulunan bir akâr'ı satarak, bedeli ile silâh ve at satın almak, böylece ölünceye kadar Bizanslılara karşı cihâdda bulunmak istemiş.
Medine'ye gelince, Medîne'lîlerden bâzı kimselere tesadüf etmiş. Onlar kendisini bu işden nehy etmişler ve ona Nebiyyullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in hayâtında altı kişilik bir cemâatin bunu yapmak istediğini fakat Nebiyyullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in, onları bundan nehyettiğini ve kendilerine: «Benim şahsımda sizin için güzel bir örnek yokmudur?»
buyurduğunu haber vermişler. Onlar, bunu söyleyince Sa'd evvelce boşadiğı karısına ric'at etmiş ve ric'at ettiğine şâhid de getirmiş. Müteakiben ibni Abbâs'a gelerek, ona Resûlullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in vitir namazını sormuş. İbni Abbâs: — Ben, sana Resûlullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in vitr'ini yeryüzünde yaşıyanların en iyi bilenini göstereyim mi?
demiş; Sa'd : — Kimdir o? diye sormuş. İbni Abbâs : — Âişe'dir. Hemen ona git de sor. Sonra gel de sana verdiği cevâbı bana haber ver!, demiş. (Sâd diyor ki) : — Bunun üzerine ben, Âişe'ye gitmek üzere yola çıktım ve Hakîm b. Eflâh'a vararak Âişe'ye beraber gitmek üzere, onu yanıma almak istedim. Hakîm : — Ben, ona yaklaşmam. Çünkü ben, onu şu iki fırka hakkında bir şey soylemekden nehyettim de o, buna razı olmayarak bildiğini işledi...
dedi. Ben, Hakim'e yeminle ısrar ettim. Bunun üzerine (Benimle) geldi. Beraberce Âişe'ye gittik. Ve yanına girmek için izin istedik. Âişe, bize izin verdi; Yanına girdik.
Hakîm'i (görünce onu} tanıyarak : — Sen, Hakîm misin? dedi. Hakîm : — Evet. cevâbını verdi. Âişe : — Yanındaki kimdir? dedi; Hakîm : — Sa'dü'bnü Hişâm'dır cevâbını verdi. Âişe : — Hangi Hişâm?
dedi. Hakîm ; — Âmir'in oğlu!, dedi. Bunun üzerine Âişe, ona rahmet okudu ve : — Hayırdır inşallah!, dedi. (Râvî Katâde : Hişâm, Uhud harbinde vurulmuşdu; demişdir.) (Sa'd diyorki:) Bunun arkacığından ben : — Ey Mü'minlerin annesi! Bana, Resûlullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in ahlâkını anlat!, dedim. Âişe: — Sen, Kur'ân okuyorsun değil mi?
dedi. — Evet okuyorum!, dedim. — İşte Nebiyyullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in ahlâkı Kur'ân idi. dedi. Bunun üzerine ben kalkmaya davrandım. Ve (bundan sonra) ölünceye kadar kimseye bir şey sormamaya niyet ettim. Sonra aklıma geldi de; — Bana, Resûlullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in gece namazını anlat! dedim; Âişe : — Sen Müzemmil sûresini okuyorsun değilmi?
dedi. — Evet okurum! cevâbını verdim; Âİşe : — İşte Allah Azze ve Celle bu sûrenin başında gece namazını farz kıldı. Bunun üzerine Nebiyyullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem) ile ashabı bir sene gece namazına kalktılar. Allah, bu sûrenin sonunu oniki ay semada tuttu. Nihayet bu sûrenin sonunda tahfifi indirdi de artık gece namazı farzdan sonra kılınan bir nafile oldu...
dedi. Ben : — Ey Mü'minlerin annesi! Bana, Resûlullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in vit'rinden haber ver; dedim; Âişe : — Biz, onu misvâkini ve abdest suyunu hazırlardık. Allah da, onu geceleyin ne zaman uyandırmak dilerse, uyandırırdı. Bunu müteâkib misvak tutunur; abdest alır ve dokuz rek'ât namaz kılardı. Bu rekâtların yalnız sekizincisinde oturur da, Allah'ı zikreder; ona hamd eyler ve duada bulunurdu.
Sonra selâm vermeden ayağa kalkar, dokuzuncu rek'âtı da kılardı. Sonra oturarak Allah'ı zikreder, ona hamdeyler ve duada bulunurdu Sonra bize işittirecek derecede selâm verirdi. Selâm verdikten sonra oturduğu yerden iki rek'ât namaz kılardı. İşte yavrum bu namaz onbir rek'âtdır. Nebiyyullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem) yaşlanıp et tutunca vitri yedi rek'ât kılmaya başladı.
Bu iki rek'âtı yine eskiden kıldığı gibi kıldı. Böylece bu da dokuz rek'ât oldu yavrucuğum! Nebiyyullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem) bir namazı kıldımı, artık ona devam etmeyi severdi. Şayet kendisine uyku veya bîr sızı galebe çalar da, gece namazını kılamazsa (onun yerine) gündüzün oniki rek'ât namaz kılardı Nebiyyullah (Sallallahu Aleyhi ve Sellem)'in bütün Kur'ânı bir gecede okuduğunu, bütün bir gece sabaha kadar namaz kıldığını ve Ramazandan başka tam bir ay oruç tuttuğunu bilmiyorum...
dedi. Bunun üzerine Ben, İbni Abbâs'a giderek Âişe'nin söylediklerini ona anlattım. İbni Abbâs: — Âişe doğru söylemiş! Ona yaklaşır olsam yahut yanına girip çıkar olsam mutlaka onun yanına gider, bunları onun ağzından dinlerdim, dedi. Ben: — Senin, onun yanına girmezdiğini bilseydim, onun hadîsini sana söylemezdim., dedim